এখনো সময় আছে, সঞ্চয় করুন,

 

বিদেশে কত বছর ধরে আছেন, সেটা মুখ্য বিষয় নয়।
মুখ্য বিষয় আপনার একাউন্টে কত টাকা আছে সেটা।
দেশে কত টাকা পাঠিয়েছেন, সেটা হিসেব নয়। হিসেব হল, কত ক্যাস করছেন নিজের পকেটে।

দেশে কত টাকা পাঠালেন, কার জীবন গড়ে দিলেন, সেই কল্পকাহিনী লিখে ডাইরির পাতা নষ্ট করে লাভ নেই এক পয়সাও। নিজের জন্য কি করেছেন, নিজের ভবিশ্যতের জন্য কি জমিয়েছেন, সেই হিসেব করুন।

যে মুখগুলোকে আজ ভিডিও কলে হাসতে দেখেন, বিপদে সে মুখগুলোকেই খুঁজে পাবেন’না, আর এটাই বাস্তবতা। চকলেট যত দামিই হোক, খাওয়ার পর তার খোসা কেউ সাজিয়ে রাখেনা, সেটা আপনাকে বুঝতে হবে।

নিজের বুঝটা নাকি পাগলেও বুঝে, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, প্রবাসীরা নিজের বুঝটা কখনই বুঝেনা। তবে নিজের করা ভুলটা কিন্তু একদিন ঠিকই বুঝে, তখন আর কিছু করার থাকেনা। স্বার্থ আর অর্থ না থাকলে, আতি কাছের আপনজনগুলো খুব দ্রুতই অচেনা হতে থাকবে। এতে আপনার পরিবার কিংবা আত্বিয়দের দোষারোপ করে কোন লাভ নেই, কারন এটাই স্বাভাবিক, মধু ছাড়া ফুলে কখনো ভ্রমর আসেনা।

রোদের প্রখরতায় পুরা চামড়া, ক্যাটারিং এর খাবার খাওয়ার পরেও যেনো অভুক্ত পেট, রাতের ছাড়পোকার কামড়, অক্লান্ত পরিশ্রম, এত কিছু সহ্যের পর মাস শেষে যে বেতনটা আসে, কোন রকম খাওয়া খরচ রেখে, রক্ত আর ঘামে ভেজা নোটগুলো পাঠিয়ে দেয় দেশে।
একটি বারের জন্যেও ভাবেনা, আমার পারমিট’টা যদি রিনিউয়াল না হয়, কোন বিপদের কারনে যদি দেশে ফিরতে হয়, দেশে গিয়ে চলবো কি করে। দেশে গিয়েতো হাত পাততে হবে, হাত খরচে জন্যেই।

যারা ধরা খেয়েছেন, তাদের বুঝার বাকি নেই, যারা এখনো ধরা খাননি,
এখনো সময় আছে, সঞ্চয় করুন
না হলে, দেশে ফিরে চোখের জল ছাড়া আর কিছুই আপন থাকবেনা। পরিবারের খরচ মিটিয়ে, নিজের ভবিশ্যতের জন্য সঞ্চয় করুন। কে কি ভাববে, কে কি বলবে, অত সাত পাঁচ না ভেবে, নিজের ভবিশ্যত নিয়ে একটু ভাবুন। কারন দিন শেষে নিজের হাত পা ছাড়া আর কেউ আপন থাকেনা, পাশে থাকেনা।

সুমন সিকদার,
সিঙ্গাপুর প্রবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *