নাটোরের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুরবানীর পশু কেনাবেচা ॥ বর্তমানে করোনার মহামারীর জন্য হাটে নানামুখি সমস্যার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা ঝুকছেন এ পন্থায়

নাটোর প্রতিনিধি.
আসন্ন কোরবানীর ঈদ। এ উপলক্ষ্যে নাটোরে বানিজ্যিক ভাবে গরু উৎপাদন ও গরু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশের করোনা ভাইরাসের জন্য দূরবস্থা কুরবানীর গরু বিক্রয়ের হতাশ প্রকাশ করছে খামারীরা। তারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আসংখ্যা করছে। ভারত থেকে গরু আসলে ক্ষতির মুখে পড়বে খামারী। এদিকে বাংলাদেশ এখন তথ্য প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে তাই দিন দিন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এই কারণে নাটোরে কোরবানীর গরু বিক্রিতে ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ,ক্যামেরা আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ইন্টানেট। করোনা ভাইরাসের জন্য হাটে বাজারে নিরাপত্তাহীনতা , সামাজিক দূরত্ব চ্ঁদাবাজি সহ নানামুখী সমস্যায় গরু কেনাবেচায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
আর ক-দিন বাকি আছে মুসলিম ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল-আজহা বা কুরবানী ঈদ। এখনও মানুষ কুরবানীর পশু কিনতে আসছে না এতে বিপদে দিন গুনছে গরুর মালিক ও ব্যবসায়ীরা। যারা গরু মোটাতাজা করে ঈদে বিক্রয় করে বর্তমানে করোনার কারণে শঙ্খায় মধ্য দিন গুনছে। তারা এই গুরু গুলো বিক্রয় করতে পারে সরকারের কাছে এমনটাই আশা করছেন । এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে গরুর ব্যাপারীরা গ্রামগঞ্জে কুরবানীর পশু ক্রয় করতে আসতে পারছে না। তাই কৃষক ও ব্যাপারীরা নজরকারা মোটাতাজা গরুর ছবি খুব যত্ন সহকারে মোবাইলে তুলে পাঠিয়ে দিচ্ছে দেশের প্রত্যন্তঞ্চলের মহাজনের কাছে ফেসবুক ইন্টানেট এর মাধ্যেমে। পরে দাম ওজনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয় তাতে। মহাজনের কাছ থেকে নির্দেশ বা আনুমানিক মূল্য জানার পর কেনা হয় মালিকের কাছ থেকে গরু। এই পদ্ধতিতে গরু কিনে ব্যাপারীরা পাঠাচ্ছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরের পার্শ্ববতী এলাকাগুলোতে। এদিকে সরকারী ভাবে একটি এপ্স বের করা হচ্ছে সেই এপ্সসে গরুর ছবি দাম ওজন লিখে দিলে ব্যাপরীরা দেখে কুরবানীর পশু ক্রয় করতে পারবে।
এভাবে গরু বেচাকেনায় গরুর মালিক ও ব্যাপারী উভয়ে লোকসানের আশংকা থাকবেনা এত লাভবান হবে গরুর মালিক ও খামারীদের। প্রযুক্তির যুগে যেহেতু মোবাইল ব্যবহার করতে হয় গরু কেনাবেচার কাজেও এই সহজলভ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যবসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এনে দিবে।
খামার মালকি মোস্তারুল ইসলাম আলম বলেন, যদি ভারত থেকে ঈদের আগে গরু না আসে তাহলে আমাদের মত খামারীদের গরু বিক্রয় হবে ।তাই সরকারের কাছে দাবি যাতে ভারত থেকে কুরবানী জন্য কোন কুরবানীর পশু আমদানি করতে না পারে তাহলে লাভের মুখ দেখবে খামারী ও ব্যবসায়ীরা।

নাটোর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন , এবছর নাটোর জেলায় ২লক্ষ ৫০হাজার গবাদিপশু আমাদের তৈরী আছে এর মধ্যে গবাদিপশু ৯০ হাজার , ছাগল-ভেড়া দেড় লক্ষ সব মিলে আড়াই লক্ষ পশু । জেলা চাহিদা পূরণ করে প্রায় ৮০ হাজার পশু অন্য জেলায় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করে থাকি। এই পশুগুলো আবাধে ঢাকা সহ অন্যন্যে জেলায় যাতে বিক্রয় করতে পারে সেদিকে লক্ষ করে মোবাইলে ফেসবুক অনলাইন বিভিন্ন ভাবে প্লাটফর্ম তৈরী করার চেষ্টা করছি যাতে এই পশুগুলো অন্যন্য খামারীর কাছ থেকে নিয়ে দেশের অন্যন্য প্রান্তে যেতে পারে ।আমাদের এই করোনা কালীন সময় বাজার কে সচল করতে পারি তাহলে কৃষক মেরুদন্ড খাড়া করে দাঁড়াতে পারবে। গরুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ।

নাটোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শাহরিয়াজ বলেন, নাটোর জেলায় কুরবানী পশু আছে গরু , ছাগল ও মহিষ আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদিত হয় ২লক্ষ ৫০হাজার । জেলায় প্রয়োজন হচ্ছে ১লক্ষ ৮০হাজার এবং ৮০হাজারের মত পশু উদ্বৃৃত্ত থাকে সেগুলো বিক্রয়ের চেষ্টা অব্যহত আছে । এতিমধ্যে পশুর হাটগুলো যাতে সুষ্ট ভাবে কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করতে পারে সেদিকে লক্ষ রেখে ব্যাংক কর্মকর্তারা জাল নোট প্রর্যবেক্ষণ, আইনসৃঙ্খলা বাহিনা নিরাপত্তা , প্রাণী সম্পদ বিভাগ ও স্বাস্থ বিভাগের কর্মকর্তা সবাই থাকবে পশুর হাটে । এছাড়াও যাতে খামারীরা ন্যায্যমূল্য পায় সেজন্য স্থানীয়ভাবে একটি এপ্স তৈরী করা হচ্ছে আবার মন্ত্রনালয় থেকে একটি এপ্স তৈরী করা হচ্ছে সেখানে কোন খামারী বা ব্যাক্তি গরু , মহিষের ছবি আপলোড দেয় সেটা দেখে জানতে পারবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সমঝতার মাধ্যেমে বাজারে ভির এড়িয়ে ক্রয়-বিক্রয় করতে পাবে। এতে বর্তমানে যে করোনার সংক্রামণ চলছে এই করোনা সংক্রামন থেকে রক্ষা পাব এবং যে খামারীরা গরু উৎপাদন করছে তার ন্যয্যমূল্য পাবে বলে আমরা আশা করি।

মোঃ রাশেদুল ইসলাম
নাটোর
১১-০৭-২০২০
মোবাঃ ০১৭১৭ ৯০৬৩৫৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *