পাগলিটাও মা হবে কিন্তু বাবা হবে না কেউ!

মোঃ আবু আল সাইদ,সাঁথিয়া,পাবনাঃ-
বিবেক তুমি প্রসারিত হও,মানুষ্যত্ববোধ তুমি জাগ্রত হও কারণ মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য।সম্প্রতি পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলাধীন কাশীনাথপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী সন্তান প্রসব করার কিছুদিন যেতে না যেতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় মানসিক ভারসাম্যহীন এই গর্ভবতী নারী। জানা যায়,গর্ভবতী এই পাগলিটার বসবাসের স্থান সাঁথিয়া পৌরসভার ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত বিল্ডিং।পাগলিটা এখন সন্তান সম্ভাবনা! কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো সন্তান প্রশব করবে? দশ’মাস দশদিন খেয়ে না খেয়ে,ঝড় বৃষ্টিসহ অসহ্য ব্যথা,বেদনা ও যন্ত্রণা সহ্য করে সাঁথিয়া পৌরসভার উপজেলা চত্বর,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,উপজেলা পরিষদ, কোনাবাড়ি, বোয়ালবাড়ি,সাঁথিয়া বাজার’সহ বিভিন্ন অলিতে গলিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলছে একমুঠো খাবারের জন্য। কিছুদিন পর এই পাগলিটাও সন্তান প্রশব করবে,মা হবে! কিন্তু বাবা হবে না কেউ?তাই জাতির বিবেকের কাছে আমাদের প্রশ্ন কে হবে এই সন্তানের বাবা?কি হবে তার বংশ পরিচয়?কে নিবে তার দায়ভার? নিশ্চয়ই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আল্লাহ ছাড়া তো কারও জানা নেই। কারণ এই সভ্য সমাজে কিছু মানুষরুপি অমানুষ আছে যারা দেখতে অবিকল আর দশজন মানুষেরই মতো অথচ এমন কোন জগন্য কাজ নেই,যা তারা করতে পারে না।হয়তো তেমনি এক জগন্য মানুষরুপি নরপশুর যৌন লালসার শিকার হয়ে পাগলিটাও গর্ভে ধারণ করেছে এই নিষ্পাপ নবজাতক অনাগত সন্তান।জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে সাঁথিয়া পৌরসভার আশেপাশে আনুমানিক ১৮/২০ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন এই তরুণী ঘোরাফেরা করতো। তার নাম,ঠিকানা সম্পর্কে স্থানীয় কেউই অবগত নয়।স্থানীয় হোটেল-রেস্টুরেন্ট অথবা সাধারণ মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় তার খাওয়া পরা চলে আর যখন যেখানে যাওয়া হয় সেখানেই তার রাত্রি যাপন। সম্প্রতি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই তরুণীর সন্তান সম্ভবা হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে বিষয়টি অনেকেরই দৃষ্টিগোচর হয়। সম্প্রতি ওই নারীর কয়েকটি ছবি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন স্থানীয় উদ্যমী ব্যক্তি সোস্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ মোঃ রুবেল হোসেন।এরপর বেশ কয়েকজন পাগলিটাকে নিয়ে ফেসবুকে আরও স্ট্যাটাস দেন।তাদের স্ট্যাটাসের উদ্দেশ্য একটাই ওই নারীর সাহায্যে সমাজের সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে খাদ্য, চিকিৎসা, ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা’সহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার জন্য সাঁথিয়া পৌরসভার পাগলপ্রেমি মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।সেই সাথে ঐ সব নরপশুদের প্রতি ধিক্কার যারা মানসিক ভারসাম্যহীন একটি মেয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমন পাপিষ্ঠ কাজটি করতে দ্বিধা করেনি।গর্ভবতী এই পাগলিটা সম্পর্কে এ প্রতিবেদক জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ জানান,পাগলিটার দেখভাল করা,তার সন্তান প্রশব করা’সহ জন্য যাবতীয় নিরাপত্তা দিতে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং কোন নরপশুর দ্বারা এমন জগন্য অপরাধ হতে পারে তা খতিয়ে দেখে আইনের আওতায় আনতে সাঁথিয়া থানার ওসি মোঃ আসাদুজ্জামানকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে এপ্রতিবেদককে জানান।তিনি আরও জানান, মানুষ হিসাবে এটা আমাদের কাম্য নয় কারণ মানুষ মানুষের জন্য।এই সব মানুষরুপি নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।কারণ তাদের জন্যই এই সভ্য সমাজে এতো অসভ্যতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *