পাবনাবাসীকে কাঁদিয়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাযা নামাজের মাধ্যমে চির বিদায় নিলেন মাওলানা আবদুস সুবহান

পাবনাবাসীকে কাঁদিয়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাযা নামাজের মাধ্যমে চির বিদায় নিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর ও পাবনা-৫ আসনের ৫ বারের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুস সুবহান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
শনিবার দুপুর ২ টায় ঐতিহাসিক দারুল আমান ট্রাষ্ট ময়দান মাঠে মরহুমের জানাযায় অংশ নেয় পাবনার সর্বস্তরের জনগণ।

এর আগে (শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০) ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) হাসপাতালে দুপুর ১ টা ৩৩ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকা থেকে মরহুমের মরদেহ (১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০) রাত ৩ টার দিকে মরদেহ নিজ শহর পাবনায় নিয়ে আসা হয়। (১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০) সকাল ৯ টায় শহরের দিলালপুর পাথরতলার নিজ বাড়িতে ও দারুল আমান ট্রাষ্ট ময়দানে সাবেক এ সাংসদ’র মরদেহে সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে দুপুর ২ টায় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আরিফপুর সদর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

সূত্র জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি আবদুস সুবহানকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগছিলেন তিনি। শুক্রবার ১৪ ফ্রেব্রুয়ারী দুপুর ১ টা ৩৩ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

আবদুস সুবহান জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করায় সংগঠনে তার প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মত। তিনি দলীয় টিকিটে পাবনা-৫ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন।

জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান পাকিস্তান আমলে ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য। তিনি পাবনা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক হেড মাওলানা ছিলেন।

২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এই প্রভাবশালী নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে প্রাণদণ্ড দেন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের আনা ৯ টি অভিযোগের মধ্যে ছয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

সুবহান হলেন জামায়াতের নবম শীর্ষ নেতা, যিনি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন।

রায়ের দিন বিমর্ষ দৃষ্টি নিয়ে কাঠগড়ায় চেয়ারে বসে ছিলেন সুবহান। তার পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা। গায়ে খাঁকি হাফ স্যুয়েটারের সঙ্গে মাথায় টুপিও ছিল।

প্রসিকিউশনের আনা ১ নম্বর অভিযোগে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বের করে ২০ জনকে হত্যা; ৪ নম্বর অভিযোগে সাহাপুর গ্রামে ছয়জনকে হত্যা এবং ৬ নম্বর অভিযোগে সুজানগর থানার ১৫টি গ্রামে কয়েকশ’ মানুষকে হত্যার দায়ে সুবহানকে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।

২ নম্বর অভিযোগে পাকশী ইউনিয়নের যুক্তিতলা গ্রামে পাঁচজনকে হত্যা এবং ৭ নম্বর অভিযোগে সদর থানার ভাড়ারা ও দেবোত্তর গ্রামে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেয়া হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড।

এছাড়া ৩ নম্বর অভিযোগে ঈশ্বরদীর অরণখোলা গ্রামে কয়েকজনকে অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় সুবহানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন ৫, ৮ ও ৯ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে সুবহানকে খালাস দেন আদালত।

জানাযা নামাজে অংশ নেয় জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা: শফিকুর রহমান, সহকারি সেক্রটারী জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা উত্তরের আমীর ড. রেজাউল করিম, পাবনা জেলা আমির আবু তালেব মন্ডল, সেক্রেটারী ইকবাল হোসাইন, পৌর আমীর অধ্যাপক আব্দুল গাফ্ফার খান প্রমূখ।
জানাযা নামাজের ইমামতি করেন মরহুমের ছোট ছেলে হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম

দ্যা ডেইলি পাবনা/এস এইস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *