পাবনায় ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যথানাশক ‘টাপেন্টা’ ট্যাবলেট!

দৈনিক পাবনা

ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ মাদকের নেশার শীর্ষে এখন ‘টাপেন্টা’ ট্যাবলেট। মানুষের রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের ওষুধ এখন নেশার কাজে ব্যবহার করছেন মাদকসেবীরা। ‘টাপেন্টা’ ট্যাবলেট ঘুম ও শরীরের ব্যথা নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন তবে বর্তমানে গত ১ বছর ধরে ঈশ্বরদীতে কোন ডাক্তার এই ওষুধ চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে লেখেনা বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী ফার্মেসী গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মরনব্যাধি নেশার এই ট্যাবলেট অতি সুলভ মূল্যে ক্রয় ও অতিরিক্ত লাভ হওয়ায় ফার্মেসী গুলোতে এখন নেশা সেবনকারী যুবকদের আনাগোনা বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফার্মেসী মালিক জানান, ঈশ্বরদী প্রায় ওষুধের দোকানে মরনব্যাধি নেশার এই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।আইনের কোন বাধ্যবাধকতা না থাকায় তরুন, যুবক থেকে শুরু করে বয়স্করাও এখন এই নেশার দিকে ছুটছে।

হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ওষুধের দোকান থেকে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ওইসব ট্যাবলেট সংগ্রহ করে থাকে। ইতোমধ্যে ওষুধের দোকানগুলোতে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ দিতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ঈশ্বরদীতে ‘টাপেন্টা’ট্যাবলেটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। বাজারে এ ট্যাবলেটটির দাম হু হু করে বেড়ে উঠেছে। বর্তমানে ৫০ মিলিগ্রাম একটি ট্যাবলেটের মূল্য ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ১০০ মিলিগ্রাম একটি ট্যাবলেটের মূল্য ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

যার কোম্পনি মূল্য ৫০ মিলিগ্রাম প্রতি ট্যাবলেটের দাম ১২ টাকা এবং ১০০ মিলিগ্রাম প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ২২ টাকা। ঈশ্বরদীতে প্রশাসনের নজরদারিতে সবধরনের মাদকদ্রব্য বেচাকেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলার চিহিুত মাদক বেচাকেনার স্থানগুলো এখন বন্ধ। এরই সুযোগে এক ধরনের নেশায় আসক্তরা ‘টাপেন্টা’ ট্যাবলেটটি নেশা হিসেবে ব্যবহারে শুরু করে। তারা ইয়াবার বিকল্প হিসেবে এখন এ ট্যাবলেট সেবন করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সেবনকারী বলেন, ‘টাপেন্টা’ ট্যাবলেট সেবন করলে ইয়াবা ট্যাবলেটের মতোই নেশা হয়। ওষুধের দোকানগুলোয় হরহামেশায় পাওয়া যায়। এটি নিরাপদ। পুলিশ প্রশাসনের ভয় নেই। যেখানে সেখানে বসেও সেবন করা যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম শামীম জানান, এই ওষুধটি নিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনসহ সকল ডাক্তারা বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এবং এটা নেশার কাজে ব্যবহার করছে বলে আমরা সকলেই জানি। তাই প্রায় ১ বছর ধরে আমরা ঈশ্বরদী কোন ডাক্তার কোন রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে এই ওষুধ লেখিনা। কিছু ফার্মেসী গোপনে এই ওষুধ বিক্রি করছেনা বলে শুনেছি।

ঈশ্বরদীর সচেতন মহলের দাবী প্রশাসনের নজরদারিও ফার্মেসী গুলোতে এই ওষুধ বিক্রি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *