পাবনায় করোনায় আক্রান্ত প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেত্রীর মৃত্যু: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্রান্ত, আবেগঘন স্ট্যাটাস

ডেস্ক রিপোর্ট

মহিলা আওয়ামী লীগ পাবনা জেলা শাখা’র সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার রেখার বড় মেয়ে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী রুপা ঢাকার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যান। পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার লেনিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন তিনি। পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লেনিনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, করোনা পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর তাকে ঢাকার রাজারবাগ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার লেনিন ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমিও। শত চেষ্টা করেও পারলাম না রুখতে তারে। এমন বেরসিকপনা আর পাগলামো করল যে কর্তৃপক্ষ আমার দেহে তার অবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করে দিল পজিটিভ নামক শব্দটা ব্যবহার করে। এখন নিরুপায় হয়ে গেলাম, সুদূর পাবনা থেকে এখন ছুটছি রাজারবাগ হাসপাতালের উদ্দেশে। যেতে যেতে পথের দুই পাশে যেসব সবুজ নিভৃত গ্রামগুলি রেখে যাচ্ছি বা ওই দূরে রেখার মতো নীলাঞ্জনার অপরূপ আকাশ, হয়তো আবার এসে দেখব একদিন।

আজ মনে হচ্ছে, জীবন বিশাল জলরাশির ওপর ভাসমান দুলে দুলে থাকা ছোট্ট ডিঙ্গিটির মতো। কখন যে কোন প্রান্ত থেকে পানি ঢুকে পড়বে, বোঝা বড় মুশকিল।’ তিনি বলেন, ‘একটু ঠান্ডা ও সর্দি-কাশি ছিল। রাজশাহীর ল্যাবে টেস্ট করিয়ে আইসোলেশনে ছিলাম। পরে জানতে পারলাম, করোনা পজিটিভ।’

উল্লেখ্য, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লেনিন দেশের একজন অভিনেতা। অভিনয়ের হাতেখড়ি আরণ্যক নাট্যদল থেকে। তার অভিনীত একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে ‘আমার নাম মফিজ ভাড়া হইল তিরিশ’ সংলাপটি তাকে সারা দেশে পরিচিতি এনে দেয়।

এদিকে মহিলা আওয়ামী লীগ পাবনা জেলা শাখা’র সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার রেখার বড় মেয়ে ও পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী রুপা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে গত রোববার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, পাবনায় পুলিশ, চিকিৎসক, ব্যাংকার, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৫৯৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় ১২ জন এবং করোনা উপসর্গে ১২ জনসহ জেলায় ২৪ জন মারা গেছে। সদর ও সুজানগর উপজেলাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সব আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের নমূণা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।

পাবনায় অফিস আদালতে স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা হলেও গণপরিবহনে ও রাস্তা ঘাটে-বাণিজ্যিক এলাকায় অনেকাংশেই স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *