পাবনায় ডিজে পার্টির নামে চলছে অশ্লীলতা

দৈনিক পাবনা

অনুসন্ধানী টিম

সারা পৃথিবীসহ বাংলাদেশও এমন কী পাবনায় ডিজে পার্টি নামক অশ্লীলতার সয়লাব চলছে। এর প্রভাবে সমাজ কলুষিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে যুবচরিত্র। দাম্পত্য জীবনেও এর বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

সমকামীতা সমাজের ব্যাধি।
ইদারিং অনলাইনেও প্রচার প্রসার এত বেড়েছে যে, প্রকাশ্যে একে অপরকে আহবান করছে পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য।

আমাদের নিজ শহর, ভালোবাসার শহরে পাবনাতেও এর প্রভাব অশ্লীলতা ঢেউ লেগেছে অনেক আগেই।

৬ বছর পেরিয়ে এবার ৭ বছরের ডিজে পার্টির আড়ালে বিপথগামী কিছু যুবক ছেলে-মেয়েদের অশ্লীলতা চর্চা করার জন্য আগামী ২৫ তারিখে প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করবার জন্য হাতে নিয়েছে।

তাই অশ্লীলতা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া খু্বই জরুরি। যেসব মাধ্যমে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করছে তা প্রতিহত করাও একান্ত প্রয়োজন।

ইসলাম কি বলে ডিজে প্রাটি সম্পকে:

ডিজে পার্টি নামক
অশ্লীলতা’ শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হিসেবে পবিত্র কোরআনে ‘ফাহশা’ ও ‘ফাহেশা’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অভিধান মতে, অশ্লীলতা মানে কুৎসিত, জঘন্য, অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও কদর্য রুচি। সাধারণভাবে বলা যায়, লজ্জাহীনতা, রুচিহীনতা, অসুন্দর, অশোভন—এসবের সামষ্টিক রূপই হলো অশ্লীলতা।

অশ্লীল কাজ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ। কারো গোপনীয় চরিত্র বা স্থিরচিত্র প্রকাশ করাও জঘন্যতম অশ্লীল কাজ। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার পছন্দ করে, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন যে কিয়ামতের পূর্বক্ষণে নগ্নতা ও অশ্লীলতার ব্যাপক প্রচার ঘটবে। হাদিস শরিফে এসেছে, নিশ্চয়ই এসব কিয়ামতের আলামত যে একসময় কৃপণতা ও অশ্লীলতা প্রকাশ পাবে। খিয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে। আমানতদারকে খিয়ানতকারী মনে করা হবে। নারীদের নতুন নতুন পোশাকের উদ্ভব ঘটবে, যেগুলো পরিধান করে নারীরা বস্ত্রাবৃত হয়েও নগ্ন থাকবে। নিকৃষ্ট লোকেরা অভিজাত লোকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে। (তাবরানি আওসাত, হাদিস : ৭৪৮৯)

অন্য হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, জাহান্নামিদের মধ্যে দুটি দলকে আমি দেখিনি। (কিয়ামতের আগে তাদের আবির্ভাব ঘটবে) এক দলের কাছে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে, সেগুলো দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করতে থাকবে। আরেক দল হলো, এমন সব নারী, যারা কাপড় পরিহিত হবে অথচ তারা প্রকৃত অর্থে নগ্ন থাকবে। তারা পুরুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইবে, নিজেরাও পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের চুলের খোঁপা উটের চুট ও কুঁজের মতো একদিকে হেলে থাকবে। তারা জান্নাতে যাবে না। জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ বহুদূর থেকে পাওয়া যাবে। (মুসলিম শরিফ : ৪/২১৯২)

এই হাদিসের শব্দদ্বয়ের কয়েকটি ব্যাখ্যা হতে পারে

১. এর অর্থ সেসব নারী আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্তা হবে, কিন্তু তারা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ থেকে বিরত থাকবে।
২.
তারা কাপড় পরিহিতা হবে, কিন্তু নেক আমল, পরকালের ফিকর ও আল্লাহর আনুগত্য থেকে নিজেদের দূরে রাখবে।
৩.সেসব নারী কাপড় পরিধান করেও সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য শরীরের কিছু অংশ খোলা রাখবে। ফলে তারা বস্ত্রাবৃত হয়েও নগ্ন থাকবে।

৪. তারা বাহ্যিক সৌন্দর্য ও অলংকারে মোড়ানো থাকবে, কিন্তু তাকওয়ার পোশাক বা মানসিকতায় নগ্ন থাকবে।

৫. তারা এতই পাতলা কাপড় পরিধান করবে যে দেহের অভ্যন্তরীণ অংশ দেখা যাবে। ফলে কাপড় পরিহিতা হয়েও তারা নগ্ন থাকবে। (শরহে নববী : ১৭/১৯০-১৯১; মেরকাত : ৬/২৩০২)

নিম্নে অশ্লীলতা বিস্তার ও সমাজে এর কুপ্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

(১) অশ্লীলতার পরিচয় : অশ্লীলতা হচ্ছে ওই কাজ, যা পাপ ও অবাধ্যতাকে বৃদ্ধি করে। আর কথা ও কাজের মধ্যে প্রত্যেক মন্দ স্বভাবকে অশ্লীলতা বলে। অর্থাত অশ্লীলতা হচ্ছে ব্যভিচার এবং যেসব নিকৃষ্ট জিনিস যা পাপ বৃদ্ধি করে। আর আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ প্রত্যেক বস্তু।

অশ্লীলতা প্রসারের মাধ্যম সমূহ : বিভিন্ন মাধ্যমে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করে। তন্মধ্যে কয়েকটি মাধ্যম নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

নেশাদার দ্রব্য পান : ধূমপান, মদ ও যাবতীয় নেশাদার দ্রব্য ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের নাপাক কর্ম বৈ কিছুই নয়। অতএব এগুলো থেকে বিরত হও। তাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হবে।
শয়তান তো কেবল চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও ছালাত হতে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করতে। অতএব তোমরা নিবৃত্ত হবে কী? (মায়েদাহ ৫/৯০-৯১)।

নেশাগ্রস্থরা এসব সেবনের জন্য সদা মরিয়া হয়ে থাকে। যখন তা সংগ্রহ করতে না পারে তখন বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এজন্য রাসূল (সা.) বলেন, ‘তুমি মদ পান কর না। কেননা মদ সব
অনিষ্টের মূল’।

(২) ইন্টারনেট : ইন্টারনেটের কল্যাণে ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি মাধ্যমে পর্ণো ভিডিও ও কুরুচিপূর্ণ ছবি অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বর্তমানে তরুণ-যুবকরা অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এসবের কারণে যুবক-তরুণদের চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। জড়িয়ে পড়ছে অবৈধ সম্পর্কে। অনেকে অবৈধ বিবাহে জড়াচ্ছে।

(৩) পর্ণোগ্রাফী : বিশ্বের মোট ওয়েবসাইটের ১২ শতাংশ (৪.২ বিলিয়ন) হলো পর্ণোসাইট। ৬৫.৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পর্ণো দেখে। ৪০০ মিলিয়ন ওয়েবসাইটের উপর করা জরিপ থেকে জানা যায়, প্রতি আটটি ক্লিকের একটি যৌন সাইট। এই খাতের আয়ও কম নয়। ২০১৫ সালে শুধু এই খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শীর্ষে আমেরিকা (৪০ মিলিয়ন) যাদের প্রতি তিনজনের একজন মহিলা, ২য় ব্রাজিল, ৩য় পাকিস্তান ও ৪র্থ চীন। বাংলাদেশেও পর্ণোর ব্যবসা কম নয়।

জুলাই’১৩-তে প্রকাশিত বাসসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন সাইবার ক্যাফেতে প্রতি মাসে ৩ কোটি টাকা মূল্যের পর্ণো ডাউনলোড করা হয়। এ সকল পর্ণোর ভিজিটরদের মধ্যে ৭৭ শতাংশই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়ে! বর্তমানে নিঃসন্দেহে এই পরিমাণ অনেক বেশি। অতএব সাবধান!

(৩) গান বজনা : গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র অশ্লীলতার অন্যতম উৎস। কোনো কোনো গানে এমন কুরুচিপূর্ণ উত্তেজক কথা থাকে যাতে যুবক-যুবতীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *