পাবনায় পিঁয়াজ আবাদে ঝুঁকেছে কৃষক

 

দাম বেশি হওয়ায় পাবনার নয়টি উপজেলায় পিঁয়াজ আবাদে ঝুঁকেছে কৃষকেরা। পিঁয়াজ উৎপাদনের প্রধানতম এলাকা হিসেবে পাবনায় এবার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের। এ পিঁয়াজ উৎপাদন হলে দেশের বিরাট চাহিদা পূরণ হবে।

নিবিড় বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় চলতি রবি মৌসুমে পাবনার পিঁয়াজ চাষিরা এরই মধ্যে পিঁয়াজের আবাদ শুরু করেছে। জেলার সুজানগরের বিল গন্ডহস্তী বা গাজনার বিল জুড়েই আবাদ হয় পিঁয়াজের। উপজেলাটি পদ্মা-যমুনার তীরবর্তী বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশ করে পলি মাটি পড়ার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি বেশি থাকায় এখানে পিঁয়াজের ফলন আশাতীত হয়ে থাকে। যে কারণে গাজনার বিলে কৃষকেরা রবি মৌসুমে শুধু পিঁয়াজ আবাদ করে থাকে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আজাহার আলী জানান, হঠাৎই পিঁয়াজের অস্থিতিশীল বাজারের কারনে দেশীয় উৎপাদিত পিঁয়াজে দেশের চাহিদা পূরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় তৎপর হয়েছে। সে কারণে দেশে পিঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুসারে দেশে পিঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টন। এর বড় জোগান আসে পাবনা জেলা থেকে। এ কারণে পিঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পাবনাতে পিঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে পাবনা জেলাতে ৪৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ আবাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এরমধ্যে সুজানগর উপজেলাতেই আবাদ করা হবে ১৮ হাজারাহ ৪শ হেক্টরে হেক্টরে। সাঁথিয়া উপজেলাতে ১৭ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৪শ হেক্টরে, আটঘড়িয়া উপজেলাতে ১ হাজার ৭৬০, ঈশ্বরদী উপজেলাতে ৬৩০, চাটমোহর উপজেলাতে ১ হাজার একশ হেক্টরে, ভাঙ্গুড়া উপজেলাতে ৩৮০, ফরিদপুর উপজেলাতে ১ হাজার ৩২০, বেড়া উপজেলাতে ৪ হাজার ৪৬০ হেক্টারে পিঁয়াজ চাষ করা শুরু হয়েছে। এ আবাদ থেকে প্রায় ৭ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হবে।

এরই মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে পিঁয়াজের আবাদ ত্বরান্বিত করার জন্য কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, পাবনা, রাজশাহী ও ফরিদপুর জেলাতে যে পিঁয়াজ উৎপন্ন হয়, সে পিঁয়াজে দেশের মোট চাহিদার অর্ধাংশের বেশি।প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আগামী বছরে পিঁয়াজের ঘাটতি হবে না।

পাবনা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারুক হোসেন জানান, চলতি রবি মৌসুমে রাজস্ব খাতের আর্থিক সহায়তায় দুইটি উপজেলাতে একশ জন কৃষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে সার সুপারিশ মালা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পিঁয়াজ আবাদের অন্যতম প্রধান এলাকা গাজনার বিল ও ঘুঘুদহ বিল এলাকার মাটি পরীক্ষা করে কৃষকদের সার সুপারিশমালা দেয়া হয়েছে। এর ফলে পিঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ উপজেলাতে আরো মাটি পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যান্য সাতটি উপজেলাতে সরকারি নির্দেশনা ও আর্থিক যোগান না থাকায় পিঁয়াজ আবাদের জন্য সার সুপারিশ মালা দেয়া সম্ভব হয় নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *