পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলে বোরো রোপনে ব্যস্ত, শ্রমিক সংকট

দৈনিক  পাবনা

 চাটমোহর  (পাবনা) : শীত উপেক্ষা করে বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা। কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের কারণে বোরো ধানের চারা রোপনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এরপর এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো আবাদ।
শীত উপো করে জমি তৈরিতে পানি সেচ আর হালচাষ চলছে। দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তবে কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে শংকিত কৃষক। কৃষি বিভাগের কর্মীরা বোরো আবাদে চাষীদের নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করছেন।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ,এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৯ হাজার ৭’শ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ৬’শ ৫০ মেট্রিকটন। গত বছরে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। গত বছরের চেয়ে এবার বোরো আবাদ বেশি হবে। রোপনকৃত জমির মধ্যে উন্নত ফলনশীল উফশী ও হাইব্রিড ধান রয়েছে। তবে ল্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে আবাদ হবে বলে কৃষি বিভাগের আশাবাদ।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীতের কারণে বোরো আবাদ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ল্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আবাদ হবে। চলনবিল অঞ্চলে এবার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোল্ড ইনজুরির কারণে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বোরো চারার সংকট দেখা দেওয়ার আশংকা করছেন চাষীরা যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, চারার কোন সংকট হবে না। সুতা টেনে চারা রোপনের কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছেন।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ,এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, সঠিক বয়সের চারা ১০ লাইন পর পর ১ লাইন ফাঁকা রেখে অর্থাৎ বাদ দিয়ে চারা রোপন করলে আলো, বাতাস পাওয়া যাবে, ইঁদুরের উপদ্রব কমবে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা যাবে। ফলন বাড়বে। এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘লোগো’।
চলনবিল অঞ্চলে এখন বোরো ধানের চারা তোলা, পানি সেচ দেওয়া, জমি তৈরি আর চারা রোপনের হিড়িক লেগেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত কৃষক। সকাল ও দুপুরের খাবার মাঠে খাওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *