পাবনার ফারুক ১৮ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালায়

দৈনিক  পাবনা

মাসুদ রানা, আটঘরিয়া, ঝালমুড়ি হেভিয়েট, মুখেজাল ভালই লাগে, টাকা নেই বাকি লেন ধান বেচি টাকা দেন, টাকা নেই কিস্তিরপর নেন এভাবেই স্লোগান দিয়ে লাল হলুদ সাদা বিশাল একটি ছাতার নিচে দাড়িয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন ফারুক। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঝালমুড়ির টেবিল মাথায় নিয়ে চলে আসেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা/ ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে সবাই ঝালমুড়ি ফারুক নামে পরিচিত এই এলাকায়। তাকে দেখলেই সবাই ছুাটে আসে ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য। পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের আনকুটিয়া গামের আরমান আলী ছেলে ফারুক। ফারুকের বাবা একজন কৃষক। চার ভাই বোনের মধ্যে ফারুক চতুর্থ। বাব মা সহ চার জনের সংসার চালান ফারুক। ছোট বেলা থেকে সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। অভাবের সংসারে নিজে পড়াশুনা না করে ভাইবোনদেরকে শিখিছেন।

ফারুক জানান, সংসার জীবনের ঝুকি মাথায় নিয়ে দীর্ঘ ১৮বছর যাবত ঝালমুড়ি বিক্রি করছি। প্রতিদিন খরচ খরচা বাদ দিয়ে ৫ থেকে ৭ শত টাকা আয় হয়। এতে আমার সংসার ভালই চলে। মুড়ি, ছোলা, চটপটি, চানাচুর,পিয়ারা, বুটভাজা বিক্রি করি। স্কুলের ছেলে মেয়ে ও আপারা আমার ঝালমুড়ি খেয়ে মজা পাই। আমাকে দেখলেই মুড়ি মাখানো খেতে আসে। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আটঘরিয়া উপজেলা গেট, দেবোত্তর কবি বন্দে আলী মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও দেবোত্তর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে এভাবেই আমি দীর্ঘদিন ঝালমুড়ি বিক্রি করি। এই এলাকার মানুষ খুব ভাল। আমাকে সবাই ঝালমুড়ি ফারুক নামে ডাকে।

ঝালমুড়ি ভক্ত স্কুলে ছাত্র ছাত্রীরা বলেন, ফারুকের ঝালমুড়ি আমাদের কাছে সবচেয়ে মজা লাগে। একবার খেলে আরও খেতে ইচ্ছা হয়। কম্পিউটার অপারেটর রাকীব হোসেন বলেন, ফারুকে দেখলেই ঝালমুড়ি খাওয়ার লোভ হয়। চলে আসে মুখে রস। প্রতিদিন তার ঝালমুড়ি না খেলে মনে হয় কি যেন খাই নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *