পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিরোধ ঠেকাতে জলাশয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জেলা প্রশাসন

দৈনিক  পাবনা

 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি খাস জলাশয়কে কেন্দ্র করে চলা দীর্ঘদিনের বিরোধ ঠেকাতে জলাশয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শনিবার উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের ঐ জলাশয়কে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করে পাবনা জেলা প্রসাশক কবির মাহমুদ। এতে দুই পক্ষই মালিকানা হারালো জলাশয়ের। গত বিশ বছরে এই জলাশয় নিয়ে অসংখ্যবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা এতে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধের অবসান ঘটল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে মোট পাঁচ একর পাঁচ শতাংশ জায়গা খাস সম্পত্তি হিসেবে রয়েছে। যার দেড় একর জায়গা জলাশয় এবং বাকী অংশ আবাদযোগ্য। এলাকার প্রভাবশালী আবুল কালাম আজাদ ও টিপু মুন্সি গংরা এই সম্পত্তি ভোগ দখল করত।

প্রায় দুই যুগ আগে তৎকালীন জেলা প্রসাশন ওই গ্রামের আকুল সরদার, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাম প্রামাণিক, ও সোহরাব হোসেন সহ ১৮ জন ভূমিহীন ব্যক্তির মাঝে ওই জলাশয় সহ পুরো সম্পত্তি বন্দোবস্ত দেন। এই বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য টিপু মুনশি ও আবুল কালাম আজাদ গংরা ওই জলাশয়ের মালিকানা দাবি করে বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তবে প্রশাসন এ আবেদনে কোনো সাড়া দেয়নি।

সেসময় জলাশয় দখল নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এরপরেও ওই জলাশয় টিপু মুনশি ও আবুল কালাম আজাদ গংদের হাতেই থেকে যায়। এদিকে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়ার পরেও দখলে যেতে না পেরে জাহাঙ্গীর, মোজাম, আকুল, সোহরাব সহ বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীনরা আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ সময় মামলা চলার পরে ২০১৫ সালে আদালত বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীনদেরকে ঐ জলাশয়ের বৈধ মালিকানা ঘোষণা করেন।

কিন্তু গত চার বছরে ভূমিহীনরা একাধিকবার জলাশয় দখলে নিতে গেলে অপর পক্ষের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রশাসনের নির্দেশে উভয় পক্ষই ওই জলাশয়ে আর যেতে পারেনি। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিবিদরা দুই পক্ষের বিবাদ নিরসনে একাধিকবার সালিশ করেও কোনো সমাধান করতে পারেনি।

সম্প্রতি জলাশয় দখল নিয়ে আবারো উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল। এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শনিবার জলাশয়কে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করে উভয়পক্ষকে জলাশয় দখল থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন এবং একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।

এক পক্ষের বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গরীব বলে সবসময়ই আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। প্রভাবশালীদের হাতে একাধিকবার মার খেলেও আমাদের পাশে কেউ দাড়ায়নি। এ অবস্থায় সরকার কর্তৃক বন্দোবস্ত দেয়া ভূমি জেলা প্রশাসন ফিরিয়ে নিল।

অপর পক্ষের আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিরোধপূর্ণ ভ‚মির খতিয়ানে মন্তব্যের কলামে পানি নিষ্কাশনের জন্য বন্দোবস্ত বর্হিভুত লেখা রয়েছে। তাই টিপু মুনশির নেতৃত্বে গ্রামবাসী ওই ভূমি ভোগ দখল করত। কিন্তু গ্রামের কয়েকজন ধূর্ত ব্যক্তি কৌশল করে সরকারি সম্পত্তি নিজেদের নামে বন্দোবস্ত করে নিয়েছে। যেহেতু খাস ভূমি ডিএস রেকর্ডে নদী এবং এসএ রেকর্ডে নালা বলে উল্লেখ আছে। তাই আমরা বন্দোবস্ত বাতিলের দাবী করেছি। সেই দাবীর বাস্তবায়ন হল।

এবিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকারের প্রয়োজনে যেকোনো সম্পত্তি সরকারি খতিয়ান ভুক্ত করা যেতে পারে। তাই সরকার প্রয়োজন মনে করলে এই বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সরকারি খতিয়ানে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করা দরকার। তাই দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ খাস জলায়শকে অভয়াশ্রমে পরিণত করা হলো। এতে এক দিকে চলনবিল অধ্যুষিত এই এলাকায় মৎস্য সম্পদের সম্প্রসারণ হবে, অন্যদিকে জলাশয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *