পাবনার রূপকথা সিনেমা হলে প্রদর্শন করা হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ২১ ঘন্টার চলচ্চিত্র ‘

পাবনা : আজ রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ২১ ঘন্টার চলচ্চিত্র ‘আমরা একটি সিনেমা বানাবো’ পাবনার রূপকথা সিনেমা হলে প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্য আশরাফ শিশিরের পরিচালনায় ব্যতিক্রমি এই চলচ্চিত্রটি পাবনার রূপকথা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের উদ্বোধন করেন পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।
পাবনা ফ্লিম সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত দুদিনের এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, রূপকথা প্রেক্ষাগৃহের স্বত্বাধিকারী ও ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সোহানী হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা ও চলচ্চিত্র পরিচালক আশরাফ শিশির, দৈনিক সিনসা সম্পাদক এসএম মাহবুব আলম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিজোটের যুগ্ম সম্পাদক কবি আলমগীর কবির হৃদয় প্রমূখ।
সোমবার (২০ জুলাই) দুদিনের এই প্রদর্শনী শেষ হবে।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, সুমনা সোমা, স্বাধীন খসরু, মাসুম আজিজ, আয়শা মুক্তি, প্রাণ রায়, তেরেসা চৈতি, এলিনা শাম্মী, অরণ্য রানা, দুখু সুমন, জান্নাত সোমা, ইমরান, স্মরণ, সৈকত, ইয়াসিন, টিটো, সানসি, অর্নব খান, সাচ্চু, লিজা, মানিক, সজীব, নুপুর, সুজয়, রাব্বী, উজ্জ্বল, দীপ, সাদ্দাম, তুয়া, তুর্য, মাঈশা, মিমো, মিন্টু, মানিক, লিটন, অলক, ভাস্কর, সম্রাট, আজাদ সহ চার হাজার শিল্পী।
আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন রাফায়েত নেওয়াজ ও সম্পাদনা করেছেন সাব্বির মাহমুদ। চিত্রগ্রহণ করেছেন মোহম্মদ আশরাফুল, সমর ঢালী ও সাব্বির।

প্রধান শিল্প নির্দেশক সলিল মজুমদার। গানে কন্ঠ দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু, নীলাদ্রি ব্যানার্জী, এলিটা, শোয়েব, রাজু (সহজিয়া), শিরোনামহীন, সুবীর নন্দী, সামিরা আব্বাসী, তুলিপ সেনগুপ্ত, অর্নব খান।
গানগুলোর সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন শিরোনামহীন ব্যান্ডের জিয়াউর রহমান জিয়া।
ছবির পরিচালক আশরাফ শিশির বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারীকে মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঐতিহ্যবাহী “রুপকথা” সিনেমা হলে ১৯ ও ২০ জুলাই একটানা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
এই ছবিটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম ফিকশন চলচ্চিত্র হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে উইকিপিডিয়া, দ্যা গার্ডিয়ানসহ দেশ ও বিদেশের নানা-গণমাধ্যমে।
এদিন আনুষাঙ্গিক বিরতি দিয়ে এক টানা ২১ ঘন্টা দৈর্ঘের চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়।

সিনেমার গল্প গড়ে উঠেছে তৃতীয় বিশ্বের ছোট্ট একটি দেশের ছোট্ট একটি শহরের যে জীবন, তা ভীষণ সাদাকালো। আর আমরা যে স্বপ্নটুকু দেখি তা কিছুটা রঙ্গিন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ মূলত: নিষ্পাপ, শুধুমাত্র পরিস্থিতি- পারিপার্শ্বিকতার কারণে তারা অনেক অন্যায় করতে বাধ্য হয়।
সিনেমা বানানোর বিপ্লবের পাশাপাশি এখানে এমন এক নিষ্পাপ মানুষের গল্প রয়েছে, যে জীবনে একটি পিঁপড়াকেও হত্যা করেনি, অথচ ছবির শেষে সে একজনকে খুন করে ফেলে। তাও আবার এমন এক নারীর জন্য যাকে সে কোনদিনও দেখেনি।
সম্পূর্ণ সাদাকালোয় নির্মিত চলচ্চিত্রটির কাহিনী গড়ে উঠেছে এমন এক জনপদকে ঘিরে, যেখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার গল্প। রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্যে কয়েকজন নিষ্পাপ মানুষের সিনেমা নিয়ে বিপ্লবী হয়ে ওঠা এবং স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *