পাবনার সাঁথিয়ায় শিক্ষিকাকে রড দিয়ে পেটালেন স্বামী

দৈনিক পাবনা

স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নার্গিস খাতুন (৩১) নামের স্কুল শিক্ষিকা। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা হোসেন আলী শেখ বাদী হয়ে জামাই নজরুল ইসলামকে আসামি করে সাঁথিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে ২০ অক্টোবর রাতে নির্যাতনের শিকার হলে ওই শিক্ষিকার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পরদিন বুধবার (২১ অক্টোবর) হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের যশমন্তদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আর নার্গিস খাতুন বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার দুর্গাপুর গ্রামের হোসেন আলীর মেয়ে। তিনি সাঁথিয়ার সাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান থানায় দায়ের করা মামলার বরাত দিয়ে জানান, সাঁথিয়া উপজেলার যশমন্তদুলিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক বছর আগে শিক্ষিকা নার্গিস খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নজরুল ইসলাম (৩৫) যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় মারপিট করতেন।

নির্যাতিতা নার্গিস খাতুন বলেন, তার স্বামী বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তার এক নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে বাধা দেয়ায় তার ওপর আরও বেশি নির্যাতন করা হয়।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নজরুল তার সঙ্গে বিনা কারণে ঝগড়া করেন। এক পর্যায়ে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেন। তার বেতন তুলে দেয়ার পরও বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এতে নজরুল ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করেন।

নার্গিসের বাবা হোসেন আলী শেখ জানান, তারা খবর পেয়ে নার্গিসকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এরপর তার চিকিৎসার জন্য সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নার্গিসের বাবা হোসেন আলী জানান, নজরুলের লোকজন তাকে ফোন করে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি সপরিবারে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *