বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (BEPA) এর উদ্যোগে খাবার বিতরণ

The daily pabna

যে জীবন অপরের জন্য না, সেটি কোন জীবন না। একটু ভালোবাসার মাধ্যমে অসহায় ছেলে মেয়ে পেতে পারে তার ভরসার জায়গা। আপনার একটুখানি হাসি অন্যের মাঝে ভাগাভাগি করলেই সেই অসহায় মানুষগুলো পেতে পারে আস্থার জায়গা।

অসহায় দুস্থ ও পথ শিশুদের মাঝে একটু হাসি ফোটাতে আজ ২৮শে আগস্ট বরিশাল জেলার সদর উপজেলাতে খাবার বিতরণ করেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থ (BEPA).

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলার টিম লিডার মো: ইমরান হোসেন, আহনাফ সারোয়ার ,আহসান সাফি নয়ন, আশিক ইবনে মাহমুদ, মো: ওমর ফারুক , নাইমা মিম, পিয়াল শিকদার, নাভিদ নাসিফ ,রাফজানা প্রিতি।

বরিশাল জেলার টিম লিডার মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, শেয়ার ইওর হ্যাপিনেস প্রোগ্রামে আমরা প্রায় দেড়শ সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়ের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেছি। সুবিধাবঞ্চিত ছেলে মেয়ের মুখের হাসি ফোটানো ছিল আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। সেই সাথে আমরা সুবিধাবঞ্চিত ছেলে-মেয়ের খোঁজখবর নিয়েছি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি, খাবারের সময় তারা হাত ধুয়ে খাবার গ্রহন করে কি না এবং তারা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহন করে কি না সে বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের সাথে আমরা প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘন্টা সময় ব্যয় করেছি। তাদের মুখ থেকে আমরা কবিতা, গান ও ছড়া শুনেছি। তিনি আরও বলেন তাদের যে প্রতিভা ছিল তা দেখার মত। সুবিধাবঞ্চিত ছেলে মেয়ের সাথে সময় কাটিয়ে অনেক ভালো লাগছে। তিনি বলেন একটি বাচ্চার মুখে হাসি ফোটাতে পারে আমি যে কি আনন্দ অনুভব করছি তা ভাষায় প্রকাশ করে বলে বোঝানো যাবে না। আমরা নিজেরা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হ্যাপিনেস শেয়ার করার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে হ্যাপিনেস গ্রহণ করেছি। তিনি আরো বলেন ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার'(BEPA) মত বিভিন্ন বিত্তবান লোকজন এ ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজন করলে সুবিধাবঞ্চিত ছেলে মেয়ে তাদের ভালবাসার জায়গা খুঁজে পাবে।

এর আগে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা, গত ২১শে আগস্ট রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন, রাজশাহী কোর্ট,রাজশাহী পদ্মা গার্ডেন এলাকায় অসহায় দুস্থ ও পথ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (BEPA) এর সভাপতি শাহ্জাহান হোসেন বলেন যে,আমরাই পারি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত ছেলে মেয়েদের মুখে হাসি ফোটাতে। হাসি সব সময় ভালো লাগে। সেটা ধোয়ামোছা ঝকঝকে তকতকে কিংবা হলদে হয়ে যাওয়া পোকা ধরা দাঁতে‌ই হোক।

কিন্তু কারো হাসির পেছনের কারিগর যদি আপনি হয়ে থাকেন তবে আপনি তৃপ্তির ঢেকুর দিতেই পারেন।তার পিছনে আপনার প্রশান্তি আর কারো মুখে হাসি।

তাদের(সুবিধাবঞ্চিত ছেলে মেয়ে) মুখের সুন্দর হাসি গুলো প্রতিনিয়ত‌ই আমাদের মধ্যে ভালোবাসা জাগ্রত করে তোলে। সেজন্য বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে সেটা হল ”শেয়ার ইওর হ্যাপিনেস।” আমরা হয়তো সব মানুষকে সব সময় খাবার দিতে সক্ষম হবো না। কিন্তু আপনার আশেপাশে এই অসহায় মানুষটাকে সাহায্য করে এগিয়ে আসতে পারেন। আমরা প্রত্যেকে চাইলে অন্যের কাছে আমাদের হ্যাপিনেস ভাগাভাগি করতে পারি সেটা হয়তো কাউকে সাহায্য করে হয়তো বা কাউকে একবেলা খাবার দিয়ে। মাদার তেরেসার একটা কথা মনে পড়ে গেল ”প্রত্যেকের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা হোক, হাসির মাধ্যমে”। আমাদের একটু সদিচ্ছার মাধ্যমে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। আসুন আমরা সকলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, একটি বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়ে তুলি।
সামনে আমাদের আরও কিছু প্রোগ্রাম রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মিশন এবং শেয়ার ইওর হ্যাপিনেস প্রোগ্রাম। আপনারা হয়তো জানেন এ বছর আমরা আটটা জেলাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করব ইতিমধ্যে আমরা দুইটা জেলাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছি এবং আজ ২৮ তারিখ পাবনা জেলাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রয়েছে। ওই একই দিনে বরিশাল জেলা তে ”শেয়ার ইওর হ্যাপিনেস প্রোগ্রাম” রয়েছে এজন্য আপনাদের সকলের সাহায্য সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য। ইনশাল্লাহ ”শেয়ার ইওর হ্যাপিনেস” প্রোগ্রাম আমরা ৬৪ জেলাতে সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করবো। আশা করি আপনারা সকলে আমাদের পাশে
থাকবেন। করোনাভাইরাস এর মধ্যে অবশ্যই সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ধন্যবাদ সকলকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *