রাবি ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’: বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থী হলেন আইন ও মানবাধিকার বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের বায়েজিদ আহমেদ প্লাবন, ইকতিয়ার আহমেদ রাফসান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের তারেক মাহমুদ জয়।

আদেশে বলা হয়েছে, অতি সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীর শ্লীলতহানির গুরুতর অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং এটি বিচারাধীন থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

“এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ থাকায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজনের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো।”

মতিহার থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীসহ মামলার মূল আসামি মাহফুজুর রহমান সারুদ ও স্থানীয় জীবন কারাগারে রয়েছেন। তবে এর মধ্যে নগরের কাজলা এলাকার বিশাল নামে একজন এখনও পলাতক রয়েছেন; তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজলা সাঁকপাড়ায় এক ভাড়া বাসায় (মেস) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান সারুদ তার পরিচিত এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গল্প করার কথা বলে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। মাহফুজুরের বন্ধু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যায়ের আইনের ছাত্র প্লাবন, রাফসান, জয় এবং কাজলার স্থানীয় জীবন ও বিশাল মোবাইলে ওই ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন।

এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তারা।

২৭ জানুয়ারি দুপুরে ওই ছাত্রী তার মা-বাবাসহ মতিহার থানায় গিয়ে ওই ছয়জনকে আসামি করে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। পরে ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

#বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ছাত্রত্ব ‘বাতিল’ চায়
ধর্ষণের ঘটনায় মূল আসামি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান সারুদের ছাত্রত্ব বালিত চেয়ে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ভাবতে খুব খারাপ লাগে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ধর্ষক রয়েছে। আমরা এই ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং ধর্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার দাবি করছি।”

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহামেদ রুনুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস।

তিনি বলেন, “যে আজ ভুক্তভোগী, সে আমাদেরই মেয়ে, আমাদেরই বোন। আমাদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। আমাদেরকে সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে। আমরা যারা মেয়ে আছি, তাদেরকে বন্ধু নির্বাচনে সচেতন হতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিশ্বাস রাখতে হবে।”

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন হল, অনুষদ, ও বিভাগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *