লালপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপির নির্দেশেও কাজ শুরু হয়নি

লালপুর(নাটোর)প্রতিনিধি:
দু’দিনের মধ্যে বসন্তপুরের বিলের মাছ তুলে খাল উন্মুক্ত করে জলাদ্ধতা নিরসনে এমপির নির্দেশও কাজ শুরু হয়নি। ফলে লালপুরের প্রায় ৩ হাজার পরিবারসহ ২২ গ্রাম পানিবন্দী রয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় , নাটোরের লালপুর উপজেলার ৮ নং দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়নের বসন্তপুরের বিলের পাড়ের রাধাকৃষ্ণপুর , মির্জাপুর ,ওমরপুর ,দুড়দুড়ীয়া ,মনিহারপুর ,জৌতগোরি , ভেল্লাবাড়ীয়া ,গন্ডবিল , আট্রীকা ,বেরিলাবাড়ীয়া , বসন্তপুর , রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খুদিছয়ঘঠি , চন্ডিপুর , জৌতরাঘোব , জৌতজয়রাম , সায়েস্তা , চকএনায়েতপুরসহ ২২ গ্রামের পানি নিস্কাশনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ১৯৯৪-৯৫ তে তৎকালিন দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আলম মক্কেল মাষ্টার খাল খনন করেন । এ খাল খনন করায় যেমন পানিস্কিাশনে সফলতা আসে , তেমনি কয়েক হাজার একর জমিতে কৃষকরা ফসল আবাদ করে সুফল পায় । এ এলাকার মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে । জমি দস্যুদের কুনজরে পড়ে বিলের জমি । যে চেয়ারম্যানের সময় খাল খনন করা হয় তারই সহযোগিতায় প্রথমে খাল দখল ,পর্যায় ক্রমে ব্রীজের মুখ বন্ধ করে প্রায় দেড় শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে । বিগত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে । বাড়ির উঠানে ও ঘরের মেঝেতেও পানি উঠে , ডুবে যায় বিদ্যালয়ের অঙ্গিনা । ক্ষতি হয়েছে ফসলের ।
গত সোমবার ( ২৭ জুলাই ) নাটোর ১ , ( লালপুর – বাগাতীপাড়া ) আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বকুল ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন ও নগদ অর্থ বিতরন কালে বলেন লালপুরে বসন্তপুর বিলে দু’দিনের মধ্যে মাছ তুলে নিয়ে খাল উন্মুক্ত করে দিন। তিনি আরো বলেন

সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা আর এ সময় আমার এলাকার মানুষ পানি বন্দী হয়ে থাকবে এটা হতে পারে না। তাই যাদের পুকুর আছে তারা দু’দিনের মধ্যে মাছ তুলে নিয়ে খাল উন্মুক্ত করে দিন। দু’একজনের জন্যে হাজার-হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে তারা আজ ঘরছাড়া, গৃহ ছাড়া। এটা হতে দেওয়া হবে না। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দশনা দেন।

গত কাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকেই পানিবন্দী মানুষকে মুক্ত করতে ৮ নং দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ও সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম মক্কেল মাষ্টারের নেতৃত্বে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার ১১ টা পর্যন্ত শুরু হয়নি। তবে সড়ক কেটে বিছিন্ন ভাবে পানি বের করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, কাজ শুরু করতে পারিনি, বিষয়টি নিয়ে মিটিংএ বসছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, চেয়ারম্যানকে নিদেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *