সাতক্ষীরায় বিএনপির ত্রাণবহরে হামলা, অভিযোগ ছাত্রলীগ–যুবলীগের বিরুদ্ধে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিএনপির ত্রাণবহরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা দুই দফা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাতখালী ও নকিপুর মোড়ে এ হামলা চালানো হয় বলে বলা হচ্ছে। হামলায় বিএনপির ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি প্রাইভেট কারসহ ৮-১০টি মোটরসাইকেল।

আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি আজিবর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ, ছাত্রদলকর্মী রাসেল, যুবনেতা আনিছ, মিঠু, জহিরুল, মোস্তফা মিন্টু, রবিউল, মামুন ও ছালামসহ ১৫ জন।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ ইফতেখার আলী জানান, যুক্তরাজ্য বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামানের অর্থায়নে তাঁর নেতৃত্বে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মইউদ্দিন, যুবদল সভাপতি আবু জাহিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সোহেল আহমেদসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগরে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে যাচ্ছিলেন। পথে কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাতখালী সেতুর কাছে পৌঁছালে স্থানীয় সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ছেলে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রাজিব হায়দারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর দুই দফায় অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা এ সময় তাঁদের অন্তত ১৫ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেন। ভাঙচুর করেন তাঁদের একটি প্রাইভেট কার ও ৮-১০টি মোটরসাইকেল। তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের ভয়ে আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তবে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হায়দার ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং বিষয়টি জানেন না দাবি করে বলেন, ‘পরে শুনেছি, যাঁরা ত্রাণ দিতে যাচ্ছিল। তাঁদের নিজেদের মধ্যে কী যেন ঝামেলা হয়েছে।’

শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক জানান, কাশিমাড়ীতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মানুষ কাজ করছেন। অথচ বিএনপির কতিপয় নেতা ত্রাণ দেওয়ার নামে করোনার সময় সামাজিক দূরত্ব না মেনে মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে স্লোগান দিয়ে আনন্দ করতে করতে ত্রাণ দিতে যাচ্ছিলেন। এটি খুবই দৃষ্টিকটু। এ ছাড়া ত্রাণ দেওয়ার নামে বিএনপি ও জামায়াত এক জায়গায় সংঘবদ্ধ হচ্ছিলেন। তবে কেউ যদি হামলা করে থাকেন, তা অন্যায়। হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, স্থানীয় বিএনপির মধ্যে একাধিক বিভাজন থাকায় কারা হামলা করেছে, তদন্ত না করে বলা যাবে না। তবে তাঁদের নিজস্ব বিরোধ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এ ঘটনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ ইফতেখার আলী বেলা দুইটার দিকে তাঁর সাতক্ষীরা শহরের কামলনগরের বাড়ির সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *