সিরাজগঞ্জে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এসপি হাসিবুল আলম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নভেল করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে । জেলায় মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জীবনের মারাত্মক ঝুঁকি থাকা সত্বেও নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে পিছু হটেননি তারা। দেশ ও মানুষের কাজে আত্মনিয়োগ করা পুলিশ আজ সবচেয়ে বেশি মানুষের আস্থা,বিশ্বাস,ভালোবাসা, অর্জন করতে পেরেছে সিরাজগঞ্জের পুলিশ বাহিনী। দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালো রাখতে পুলিশ সদস্যরা বিরামহীন রক্ষণাবেক্ষণ হিসেবে কাজ করছে। এতে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাই সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বিপিএম
জানান, চলমান মহামারী করোনা মোকাবিলায় যাকে যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি পুলিশ সদস্য হাসিমুখে সেখানেই সে দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে মনে করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বিপিএম জানান,গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনা রোগী চিহ্নিত হলে সরকার সারাদেশ অঘোষিত লকডাউন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পোশাকশিল্প মালিকদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে একাধিকবার পোশাককর্মীরা ঢাকায় যাতায়াত করে। এ কারণে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তার পরও সিরাজগঞ্জকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ এবং করোনামুক্ত জেলা হিসেবে রাখতে পারলেও ঈদ মার্কেট কিছু দিনের জন্য খোলা রাখায় বর্তমানে তা আর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়নি। তার পরও দেশের অন্যান্য জেলার চাইতে সিরাজগঞ্জ এখনো অনেকটা ভালো অবস্থানে আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি জানান, আমরা
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জন্য মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ঘন ঘন হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো,জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সেবা,করোনায় মৃতদের দাফনে সহয়তা করা,সব বাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি ভবনে প্রবেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলার ৯ টি উপজেলায় মাইকিং এবং প্রায় ৩০ হাজার লিফলেট বিতরণ সহ নানামুখী জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছি । একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃহৎ আকারে ৫০ টি অধিক বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে করোনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেছি।এছাড়াও সরকার যখন সীমিত আকারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো সচল করতে বলল, আমরা সেগুলোয়ও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় সহযোগিতা করেছি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণের জেলাগুলোয় মানুষের অবাধ যাওয়া-আসা বন্ধ করতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি। একই সঙ্গে দেশের বাইরে এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা থেকে আসা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ব্যক্তিকে হোম- কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করেছি। প্রায় ৫ হাজার বেশি স্টিকার ছাপিয়ে করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করে তাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছি। প্রতিবেশীদের ভালো রাখতে লাল পতাকায় চিহ্নিত করে দিয়েছি তাদের বাড়ি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সম্প্রতি এনায়েতপুর উপজেলা এলাকায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ৫ দিন পুলিশকে দিনরাত কাজ করতে হয়েছে। সেখানে শত শত মানুষের জনসমাগম হয়। সে কারণে ওই থানার ১৫ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রমণ হয়। ইনশাআল্লাহ, তারা এখন অনেকটা ভালো। আমি নিয়মিত তাদের এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছি। তিনি জানান, মার্চ মাসের ৮ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৯১জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর মারা গেছেন। তবে আশার কথা, সবাই এখন সুস্থ আছে।

মানবিক সহায়তা বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি আমরা দুস্থ নয়, অভাবগ্রস্ত নয় কিন্তু করোনায় দুর্দশাগ্রাস্ত মানুষদের
চিহ্নিত করে তাদের ২ হাজার বেশি পরিবারকে গোপনে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি।

পুলিশের নতুন আইজির কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বলা হয়েছে, বর্তমান করোনাকালে পুলিশের ভূমিকা মানুষের মন জয় করেছে। পুলিশের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে মানুষকে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। আগে মানুষ সেবার জন্য থানায় আসত, কিন্তু পুলিশ এখন সেবাদানের জন্য মানুষের কাছে যাবে। একজন সম্মানিত নাগরিক পুলিশের কাছে যে ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, ঠিক সেই ব্যবহার পুলিশ প্রদান করবে এটি বাস্তবায়নের জন্য সিরাজগঞ্জে আমরা যে কাজ করছি, তার সুফল দ্রুতই পাবে মানুষ। একান্ত দরকার ব্যতীত বাড়িঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য সিরাজগঞ্জবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *