১৮ বছর ধরে গাছের চারা বিতরণ ও রোপন করছেন পাবনার বৃক্ষ প্রেমিক কামাল হোসেন

বিনামূল্যে মানুষের মাঝে ১৮ বছর ধরে গাছের চারা বিতরণ ও রোপন করছেন পাবনার বৃক্ষ প্রেমিক কামাল হোসেন। জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই কার্যক্রম।

পাবনা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে সদর উপজেলার কুচিয়ামারা গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন। শিক্ষা জীবন শেষে শত চেষ্টায়ও জোটেনি ভাল চাকরি। বেকার না থেকে ২০০১ সালে গড়ে তোলেন একটি নার্সারি। তাতেই মিলেছে রুটি রুজির নিশ্চিয়তা। সাথে বাড়তি পাওনা, গাছ লাগানোর শখ মেটানো।

কামাল হোসেন বলেন, ২০০১ সাল থেকে আমার সবুজের প্রতি মনটা আকৃষ্ট হয়। আমি পাড়া গ্রামে ছোট্ট পরিশরে বৃক্ষ দান শুরু করি। আমার বাবার মৃত্যুর পর গোরস্থানে ২শতাধিক গাছ বিতরণ ককরে বৃক্ষ বিতরণ শুরু করি। পরে বুঝতে পারি এটা অক্সিজেনের অভাব মেটার জন্য সবুজ গাছের বিকল্প নাই। তারপরেও জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি সারা জীবন এই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। এখন পর্যন্ত ৯০ হাজারের উপর গাছের চারা বিতরণ ও রোপন করেছি। শুধু গ্রাম নয় শহরকেউ সবুজ বেষ্টনি গড়ে তুলব। এবং আমি নিজ অর্থেই এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমি যে গাছ বিতরণ ও রোপন করেছি শতকরা ৯৫ ভাগ গাছ বেঁচে রয়েছে এবং পাবনার মানুষ আমাকে সারা দিয়েছে। আমি এখন পর্যন্ত ১৬০টি গ্রামে আম, জাম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন গাছ যেখানে যা শোভা পায় সেখানে সেই গাছ রোপন করেছি। বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গাতেও বৃক্ষ রোপন করতে চলেছি।

পকেটের টাকা খরচ করেই, গ্রামের রাস্তার দুপাশ, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ যেখানেই খালি জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই লাগিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের গাছ। পরিচর্যাও করছেন নিয়মিত।
এই উদ্যোগের উপকারভোগীও কম নয়। তাদের সবার মুখেই এখন কামাল হোসেনের প্রশংসা।

পাবনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সামাজিক বন বিভাগ মাহাবুবুর রহমান বলেন, এ বিষযে আমরা অনেক মানুষকে গাছ লোগানোর জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কামালও নার্সারি করার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। আমাদের প্রতি বছর যে বৃক্ষ মেলা হয়। বৃক্ষ মেলাতেও তার নার্সারি অংশ নিয়ে থাকে এবং তিনি নিজেও প্রতিষ্ঠিত নার্সারি স্থাপন করেছেন। তবে তিনি স্ব উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করেন। এবং জনগনকে চারা লাগানোর জন্য উৎ’সাহিত করেন। এই যে জনগনকে উৎসাহিত করা সেটা যেমন আমরা সরকারি উদ্যোগে কাজ করছি সেইখানে যদি জনগন সম্পৃক্ত হয় বনায়নটা দেশে বৃদ্ধি পাবে। কামাল সাহেব সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করছে। তার ভূমিকা অত্যান্ত প্রশংসনিয়। এবং তার এই কার্যক্রম আরো চালিয়ে যাবে সেটা আমরা আশা রাখব। এবং তিনি যদি আমাদের কাছ থেকে সহযোগীতা চান তাহলে আমরা সহযোগীতাও করব)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *