পাবনায় শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে

পাবনার চাটমোহরে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আমিরুল ইসলাম নামে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার বিকেলে উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর কক্ষে। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি স্বজনদের খুলে বলে।
এরপর রাতেই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন গ্রাম প্রধান ধামাচাপা দিতে ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মাকে হুমকি দিয়ে বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করে দেন। তবে শিক্ষকের এমন আচরণে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। ঘটনাটির নায্য বিচার চেয়েছেন তারা।
জানা গেছে, রোববার বিকেলে স্কুল ছুটি হওয়ার পর ওই ছাত্রীকে শিশু শ্রেণীর কক্ষের দরজা-জানালা লাগাতে বলেন সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম। শিক্ষকের কথামতো ওই শিক্ষার্থী জানালা লাগানোর সময় একা পেয়ে আমিরুল ইসলাম পেছন থেকে তাকে (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। পরে ওই শিক্ষার্থী চিৎকার দিলে তাকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্ত শিক্ষক। এরপর বাড়ি ফিরে কাঁদতে কাঁদতে ওই শিক্ষার্থী স্বজনদের ঘটনাটি খুলে বলে।
পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাজাদ হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এলাকার কয়েকজন প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা-মাকে হুমকি দিয়ে বিষয়টি আপোষ-মীমাংসা করে নিতে বলেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান। এদিকে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনাটির সঠিক বিচারের দাবি করেছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়েও ওই স্কুলে পড়ে। এরপর মেয়েকে কোন ভরসায় স্কুলে পাঠাব? এর বিচার না হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক কীভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেন-প্রশ্ন রাখেন তিনি।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলামের মোবাইলে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি নিউজ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি। তবে যাই হয়েছে, সেটা আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি ওই পরিবারের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। নিউজ করবেন না। আমি মরে যাব।’
প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি তো মীমাংসা করে দেয়া হয়েছে। হাত ধরে ক্ষমা চেয়েছেন ওই শিক্ষক। এখানে নিউজ করার কী আছে?’ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন কী না বা আপনি বিষয়টি মীমাংসা করতে পারেন কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, স্যারদের জানাই নি। যেহেতু এলাকায় থাকি তাই কয়েকজন প্রধানকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তবে শিক্ষার্থীর সাথে এমন আচরণ কোনো ভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি আপোষযোগ্যও নয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে শিগগিরই এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *