আ’লীগ নেতা হত্যার প্রতিবাদে বাড়ি-দোকানে অগ্নিসংযোগ, ওসিসহ আহত ২৫

পাবনায় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বকুল শেখ (৩৫) হত্যার ঘটনায় শোকে ও প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন এবং এলাকাবাসী। হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার কয়েক হাজার শোকার্ত মানুষ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এদিকে বকুল হত্যাকে কেন্দ্র করে শহরের অনন্ত মোড়ে ও দক্ষিণ রাঘবপুরে ১০/১২টি বাড়িঘর, ২৫/৩০টি দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এসব ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া চলাকালে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এ ধাওয়া পাল্টাধাওয়া চলাকালে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে পাবনা থানার ওসি নাসিম আহম্মদসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জেও কমপক্ষে ২০ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আহত হন।

এর আগে বকুল হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন নিহতের স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় পাবনা শহরের অন্তত মোড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার ও একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল শেখকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। শনিবার দুপুর ২টায় অনন্ত মোড়ে ইমাম গাজ্জালি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে তাকে শহরের আরিফপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

দাফন শেষে ফেরার পথে বিক্ষুব্ধরা অনন্ত মোড় ও দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার নিকারিপাড়াসহ আশপাশের এলাকার ১০/১২টি বাড়িঘর, ২৫/৩০টি দোকানপাট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়।

পাবনা থানার ওসি নাসিম আহম্মদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তিনিসহ ৫ পুলিশ আহত হন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটে কমপক্ষে ২০ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আহত হন।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দুলাল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পাবনা ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট আগুন নেভাতে যায় এবং বিকাল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান জানান, হত্যাকাণ্ডের রাত থেকেই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাহারা বসানো হয়। এজন্য পুলিশ সতর্ক ছিল। কিন্তু লাশ দাফন শেষে কিছু বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আচমকা বাড়িঘরে হামলা চালায়।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি শান্ত।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বকুল হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নিহত বকুলের স্বজন, এলাকাবাসী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা। অনন্ত মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ বাবু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাসেল আলী মাসুদ, দোগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হাসান প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বকুল শেখ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাবনা শহরের অনন্ত মোড়ের সিএনজি ও অটোবাইকের চাঁদা তোলা নিয়ে এলাকার মোখলেছুর রহমান গংয়ের সঙ্গে বকুলের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রতিপক্ষের একদল সন্ত্রাসী বকুলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নিহত বকুলের স্বজনদের বরাত দিয়ে পাবনা থানার ওসি জানান, রাতেই মামলা হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *