অবিবাহিত মাসুমের ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেলা-জুড়ে এটা এখন ভাইরাল। বিদেশ থেকে ফিরে মাসুম (৩০) নামে এক যুবক তার টাকায় ১১টা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কিনে সেগুলোর নাম দিয়েছেন ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

জানা গেছে, মাসুম এখনও অবিবাহিত। বিষয়টি নিয়ে রীতিমত নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের মসজিদ পাড়ার শেখ সুলতানের ছেলে মাসুম মিয়া (৩০)। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। তারপর থেকে মা-বাবার পুরো দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নেন মাসুম। ব্যক্তিগত জীবনে এখনও অবিবাহিত মাসুম। দীর্ঘ ১২ বছর মালয়েশিয়াতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন।

 

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তিনি। মালয়েশিয়াতে থাকা অবস্থায় যা আয় করেছেন তা দিয়ে ১১টি ইজিবাইক কেনেন মাসুম। বর্তমানে তার মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইক থেকে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে বাবা-মাকে নিয়ে খুব ভালো মতো চলে তার সংসার। বাড়তি টাকা সঞ্চয়ও করেন তিনি।

মাসুম মিয়া আরটিভি নিউজকে জানান, তার মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইক ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নামে চুয়াডাঙ্গা শহরে চলাচল করছে। তিনি নিজে একটি চালান। বাকীগুলো ভাড়ায় দিয়েছেন। অবিবাহিত হয়েও তিনি তার ইজিবাইকের পিছনে কেন ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ লিখেছেন?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইজি-বাইকগুলো কেনার পর যে নামই রাখতে চেয়েছি পরে দেখছি ওই নামে কোনো না কোনো পরিবহন রয়েছে। আসলে প্রতিটি ব্যবসায় ব্র্যান্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নাম রেখেছি। বিদেশে গিয়ে বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে। এবার বিয়ে করে সংসারী হতে চায়। বাবা-মায়ের পছন্দের পাত্রীকে খুব শীঘ্রই বিয়ে করে, নতুন জীবন শুরু করবো। বিদেশ যাওয়ার আর কোন ইচ্ছা নেই। বিয়ে করে বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বাকি জীবন দেশে কাটিয়ে দিতে চাই।

তিনি আরও জানান, জন্মদাতা বাবা-মায়ের পরই বউ হলো সবচেয়ে আপন ও ভালো বাসার মানুষ। বিয়ের পর সংসারের ভাল-মন্দ আমার পরই বউই দেখাশোনা করবে। বউয়ের দোয়া পরিবহন চুয়াডাঙ্গা শহরে আমার আলাদা একটা পরিচিতি এনে দিয়েছে। সবশেষে তিনি হবু বধূসহ তার পরিবারের জন্য দোয়া চান।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *