পাঁচ বছর সাজার ভয়ে ১৪ বছর পালিয়ে ভাঙ্গুড়ার আবু সাইদ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আবু সাইদ নামে (৪০) নামে পলাতক এক আসমিকে আটক করা হয়েছে। ৫ বছর সাজার ভয়ে তিনি ১৪ ধরে পলাতক তিনি।

সোমবার উপজেলার শরৎনগর গ্রাম থেকে সখিপুর থানার এএসআই সানিউল হক ও ভাঙ্গুড়া থানার এসআই এনামুল যৌথ অভিযানে তাকে আটক করে।  মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আবু সাইদ টাঙ্গাইল জেলার সখিপুরের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি মামলার পাঁচ বছর সাজার খাটার ভয়ে ভাঙ্গুড়ায় ১৪ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিল। সাইদ এলাকায় সিএনজি গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।

জানা যায়, সাইদ টাঙ্গাইলের সখিপুরে প্রবাসীদের ব্যাংক ড্রাফটের ব্যবসা করতো। এই সুযোগে সে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ২০০৭ সালের দিকে গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে ঐ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বাজারের বণিক সমিতির মামুন টাঙ্গাইল আদালতে সাইদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। ওই বছরই তার নামে আদালত থেকে থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আসে। মামলায় ২০০৮ সালে তার ৫ বছরের সাজা হয়।

আত্মগোপনের পর থেকে আবু সাঈদ পাবনার ভাঙ্গুড়া অবস্থান করতে থাকেন। সেখানেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। এই ১৪ বছরে তার সংসারে ৮ ও ২ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে।

আরও জানা যায়, সখিপুর থানার এএসআই সানিউল আবু সাঈদকে ধরতে গত এক মাস ধরে সাইদের নিজ বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে অবস্থান করে আসছিল। সাইদের মায়ের মোবাইল ফোন ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সাইদের অবস্থান পাবনার ভাঙ্গুড়াতে শনাক্ত করে। পরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সহায়তায় উপজেলার শরৎনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই অভিযানে ভাঙ্গুড়া থানার এসআই এলামুল সর্বাত্মক সহায়তা করেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, সাইদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ তাকে আটকে টাঙ্গাইলের সখিপুর থানা পুলিশকে সর্বাত্মক সহায়তা করছে। আসামি সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *