রঘুরগাঁতীতে ঈদ আনন্দ বিনোদনে দর্শকের ঢল

রঘুরগাঁতীতে ঈদ আনন্দ বিনোদনে দর্শকের ঢ

 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
এস এম হাসান রেজা
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা মধ্যে দিয়ে
সিরাজগঞ্জের বহুলীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিস্কুট দৌড়, হাড়িভাঙা, বালিশ খেলা, সুঁই সুতা, চোখ বেঁধে হাঁস ধরা, তৈলাক্ত কলার গাছে উঠা, যেমন খুশি তেমন সাজ,বেলুন ফাটানো খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব খেলা দেখতে ঈদের পরের দিন বুধবার (৪ মে) বিকালে ঢল নেমেছিল বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষ দর্শকের।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী
ইউনিয়নের রঘুরগাঁতী গ্রামে এমন ঈদ বিনোদনের আয়োজন হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার মোঃ ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগে রঘুরগাঁতী উত্তর পাড়া মসজিদ সংলগ্নে ধানক্ষেত গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রাণের খেলার আয়োজনে ছিল ব্যাপক উৎসাহ।

করোনা আতঙ্কে দীর্ঘদিন ধরে নির্মল বিনোদনহীন অবস্থায় থাকা বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষের উপস্থিত হয়ে খেলা উপভোগের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে তারা ভাগাভাগি করে নেয়।
উন্মুক্ত তৈলাক্ত কলাগাছে উঠা খেলায় ১০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। অপরদিকে স্বল্পতম সময়ে তৈলাক্ত কলাগাছে উঠা খেলায় মোঃ মসলিম উদ্দিন প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

খেলার আয়োজক মোঃ ফরিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী
সহকারী সমিতির সদস্য মোঃ শাহ জালাল শেখ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ডাঃ মোঃ আল আমিন শেখ, আব্দুল লতিফ শেখ,দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোঃ নাজমুল হোসেন প্রমূখ।

 

প্রধান অতিথি শাহ জালাল বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প। আবার নাম শুনে অনেকেই হাসে। গ্রামের এসব খেলাগুলোর মধ্যে হা-ডু-ডু, গোল্লাছুট, বৌচি, ডাংগুলি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এসব খেলা চলাকালে শতশত মানুষের ঢল নামতো খেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু এখন গ্রামের খোলা মাঠ কমে যাওয়ায় এসব খেলা শুধুই স্মৃতি। এক সময় এ দেশের ছেলেমেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে খেলতো। যাতে করে আগামী প্রজন্ম আমাদের গ্রামীণ খেলাকে জানতে পারে। ভুলে না যায় আমাদের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য। ছোট্ট বেলার অগনিত খেলা গুলো নিয়ে আজকের এই আয়োজন।
ঈদের পরের দিন আমরা সবাই একত্রে হই। আমার সবাই মিলে আনন্দ বিনোদন করে থাকি। ঈদের বাড়তি আনন্দ দেওয়ার জন্য আমরা এই খেলা আয়োজন করি। খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন করে। যুব সমাজ যাতে মাদকে আসিক্ত না হয় সেজন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে তিনি জানান।

 

আয়োজক ফরিদুল ইসলাম জানান, আধুনিকতার স্পর্শ আর সভ্যতার ক্রমবিকাশে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। যেসব খেলাধুলা মেতে থাকতাম ছোটবেলায়। আজকের মধ্যবয়সী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও সেসব খেলাধুলা না দেখতে দেখতে ভুলেই গেছেন বহু খেলার নাম।
আমরা ছোট বেলায় অনেক রকমে খেলাধুলা করতাম যেমন, হা-ডু-ডু, কানামাছি বৌ বৌ, হাঁড়ি ভাঙ্গা, গোলাছুর ইত্যাদি।এখন এই নতুন প্রজন্ম খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই জনপ্রিয় এসব গ্রামীণ খেলাধুলা যাতে না হারিয়ে যায় সেজন্য আমরা প্রতি বছর ঈদের পরের দিন আয়োজন করে থাকি৷ তাই ছোট বেলার স্মৃতিগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করছি।

খেলা পরিচালনা করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হোসেন আলী।

এসময় মোঃ হাসেন আলী,মোঃ জাকিরুল ইসলাম সহ এলাকায় গণমান্য বক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *